নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২১ আগস্ট এক গভীর বেদনাবিধুর দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান ২৪ জন। আহত হন শতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান।
সেদিন বিকেলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই সমাবেশস্থলে একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। মুহূর্তেই সমাবেশস্থল পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, আর্তনাদ ও রক্তাক্ত মানুষের দৃশ্য।
হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সমাবেশের মঞ্চ। শেখ হাসিনা হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। তাঁর নিরাপত্তাকর্মী মাহবুবুর রহমানসহ বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। হামলার ভয়াবহতায় সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
হামলার পর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলে। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে মামলার সব আসামিকে খালাস দেয়।
ফলে ২১ আগস্ট হামলার ঘটনাকে ঘিরে বিচার, তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে আসে। ২০২৬ সালের বর্তমান পর্যায়েও ঘটনাটি বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে এখনও গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। প্রতি বছর এই দিনে নিহতদের স্মরণ করা হয় এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ অধ্যায়। নিহত ও আহতদের স্মৃতি স্মরণ করে ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়—এমন প্রত্যাশাই রয়েছে বিভিন্ন মহলে।