কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি একদিকে যেমন প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, অন্যদিকে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এবার এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে সতর্ক করে চাকরি ছেড়েছেন প্রযুক্তি খাতের দুই গবেষক।
গবেষকদের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ভবিষ্যতে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন সেটিকে মানুষের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন জ্যাকব কক্সন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চাকরি ছাড়ার পর এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
কক্সনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কিন্তু প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, সেই তুলনায় এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে কি না—সেটিই বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে Google DeepMind-এর সাবেক গবেষক বিলাল চুগতাইও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতের উন্নত এআই মানুষের জন্য এমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা বর্তমান প্রযুক্তিগত ঝুঁকিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।
বর্তমানের এআই মূলত মানুষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু গবেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআই যদি নিজে থেকে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে, নিজের সক্ষমতা উন্নত করতে এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষ করে এআই যদি মানুষের নির্ধারিত লক্ষ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে কিংবা নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর—তাহলে সেটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এ কারণেই এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অনেক গবেষক উন্নত এআই তৈরির পাশাপাশি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাধীন পরীক্ষা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন।
না। এআই নিয়ে গবেষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এআইয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কীভাবে বিকশিত হবে এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন হবে—তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়াও কঠিন। কারণ এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, ততই এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তাই বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মত হলো, এআই বন্ধ করে দেওয়া নয়; বরং এর উন্নয়ন যেন নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং মানবকল্যাণকেন্দ্রিক হয়, সেটি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দুই গবেষকের পদত্যাগের ঘটনা সেই বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে—মানুষ কি এআইকে নিয়ন্ত্রণ করবে, নাকি একসময় এআইয়ের ক্ষমতাই মানুষের নিয়ন্ত্রণের সীমা অতিক্রম করবে?