বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিচার-পূর্ব আটক রাখা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কর্মকর্তা, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের অনেকেই এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই কারাগারে রয়েছেন।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তবে প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দীর্ঘদিন আটক রাখা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অনেকের পরিবার ও আইনজীবীরা জামিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কারাগারে মারা গেছেন।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ বিচার-পূর্ব আটক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কেউ এখনো জামিন পাননি। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রবীণ এবং গুরুতর অসুস্থ।
এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশের সরকারকে আটক ব্যক্তিদের প্রতিটি মামলা পৃথকভাবে পর্যালোচনা, আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় না হলে আটক থেকে মুক্তি, দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির মতে, বিচার-পূর্ব আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, নিয়মিত চর্চা নয়। কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখার ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা, নির্দোষিতার পূর্বানুমান এবং দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন হলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।