
ধানের-শীষে-ভোট-দেওয়ায়-বউকে-‘তালাক’!
ফেনীতে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে মৌখিকভাবে ‘তালাক’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে স্ত্রীকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেন কাওসার। তবে প্রথমবার ভোটার হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন জহুরা।
সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি পরিবারের জন্য নাস্তা প্রস্তুত করেন। পরে বিকেলে প্রতিবেশীর কাছ থেকে স্ত্রী ভোট দিয়েছেন—এ তথ্য জানার পর কাওসার ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, মাগরিবের সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন এবং তাকে ঘরে ঢুকতে নিষেধ করেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী কাওসারকে আটক করে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে তালাক প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিন সন্তান নিয়ে জহুরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
গ্রামবাসী নুরুল আফছার দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচার হয়েছে। আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, কাওসার শ্বশুরকেও মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ বলেন, তিনি অতীতে একাধিকবার এসব বিরোধের মীমাংসায় উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, কাওসারের আচরণ আক্রমণাত্মক ছিল।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে জানানো হবে।