1. admin@aalokbarta.com : admin@123 :
  2. wpsvc_dc6021976a8b@wordpress-svc.internal : wpsvc_dc6021976a8b :
উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার-গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী - আলোক বার্তা
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার-গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

ফেনী প্রতিনিধি

দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল’ আবারও এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার ভাতা প্রদান কার্যক্রমও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন তিনি।

রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশে অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ প্রয়োজন। কেউ যাতে অযথা পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত’ আবার এক হয়েছে এবং তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল পরিবেশ জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বারবার ‘এক দফা’ কর্মসূচির কথা বলছে, কিন্তু তারা আসলে কী চায়, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সংশ্লিষ্টদের দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।

উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে জোর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অনুকূল পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের বন্ধ মিল-কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ভাতা চালু হওয়ায় দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

ফেনীতে কৃষক কার্ড ও সম্মানী বিতরণ

অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনী জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১২ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মোট ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়। অনুষ্ঠানে তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করেন। ভাতার অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার পর উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে অর্থপ্রাপ্তির খুদে বার্তাও পাঠানো হয়।

কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ

দিনব্যাপী ফেনী সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে এবং নতুন করে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়তে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন এবং সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উন্নয়নের বার্তা

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি। তিনি একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। এ জন্য জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর


প্রযুক্তি সহায়তায় TECH SPACE