বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মঞ্চে হিউস্টনে এক রুদ্ধশ্বাস ও মহানাটকীয় লড়াইয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের একদম শেষদিকে গোল করে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেলেসাওদের জয় নিশ্চিত করেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
কাইশু সানোর প্রথমার্ধের গোলে জাপান লিড নিলেও, দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতা এবং ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে) গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছে সেলেসাওদের।
তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে হিউস্টনের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেয় জাপান। ব্রাজিলের ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে ছোটেন কাইশু সানো। সেলেসাও ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর চোখধাঁধানো বুলেট গতির শট আলিসনকে পরাস্ত করে জালের কোণায় আশ্রয় নেয়। দেশের হয়ে সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।
পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরাতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৬ মিনিটে) লুকাস পাকেতার বদলে বিস্ময় বালক এনদ্রিককে মাঠে নামান আনচেলত্তি। বদলি খেলোয়াড় নামার পর ব্রাজিলের আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায়। ৫২ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের হেড এবং ৫৩ মিনিটে গোললাইনের ঠিক কাছ থেকে জাপানি ডিফেন্সের অবিশ্বাস্য ক্লিয়ারেন্সে সে যাত্রায় বেঁচে যায় জাপান।
কিন্তু পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একের পর এক আক্রমণ আর সামাল দিতে পারেনি জাপানি রক্ষণ। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের চমৎকার ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে এক দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। সমতায় ফেরার ঠিক দুই মিনিট পর (৫৮ মিনিটে) ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লিড নেওয়ার এক নিশ্চিত প্রচেষ্টা রুখে দেন জাপানের ত্রাতা সুজুকি।
এর পরই আক্রমণের ধার বাড়াতে কুনিয়ার বদলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামায় ব্রাজিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে রেফারি যখন ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইম বা যোগ করা সময় দেন, তখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইজের নিখুঁত পাস থেকে বল পান মার্তিনেল্লি। জাপানি রক্ষণভাগের সামান্যতম অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তার নেওয়া চমৎকার কোনাকুনি শট পোস্টে লেগে জালের ভেতরে জড়িয়ে যায়।
মার্তিনেল্লির এই নাটকীয় গোলটি লাইফলাইনের মতো বাঁচিয়ে দেয় সেলেসাওদের। শেষ মুহূর্তে জাপানিদের সব আক্রমণ নসাৎ করে দিয়ে অবশেষে ১১তম মিনিটে বাজল রেফারির শেষ বাঁশি। আর তাতেই রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।